Table of Contents
এনআইডি কার্ডের তথ্য সংশোধনের উপায়
ঘরে বসে খুব সহজেই চাইলে আপনি এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে পারবেন। আজকে আমরা সে বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করবো। প্রথমেই ওয়েবসাইটের ‘services.nidw.gov.bd/nid-pub‘ সাইটে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে।

অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন নামে একটি পেইজ দেখতে পারবেন এখানে আপনার পুরো নাম ইংরেজিতে লিখুন, জন্মতারিখটি দিন, এবং ক্যাপচাটি ফিলাপ করে তারপর বহাল বাটনে ক্লিক করুন। আপনার জন্মনিবন্ধনের তথ্যানুযায়ী নাম ও জন্মতারিখটি দিন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যানুযায়ী আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানাটি সিলেক্ট করে দিন এবং পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

যে মোবাইল নাম্বারটি আপনি জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময় ব্যবহার করেছিলেন সেই মোবাইল নাম্বারে একটি কোড যাবে। যদি আপনার সে নাম্বারটি সাথে না থাকে তাহলে মোবাইল পরিবর্তন বাটনে ক্লিক করুন এবং নাম্বারটি পরিবর্তন করে দিন।

ছয় ডিজিটের কোডটি এখানে বসিয়ে দিন।

অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করার এই পর্যায়ে, এখন আমাদের একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্যে NID WALLET অ্যাপলিকেশনটি ডাউনলোড করতে হবে এবং ইনস্টল করে নিতে হবে। প্লে-স্টোর থেকেই ডাউনলোড করতে পারবেন। অ্যাপলিকেশনটি ইন্সটল করা হলে অ্যাপটি ওপেন করুন।

ওয়েবসাইট থেকে QR টি অ্যাপ ব্যবহার করার মাধ্যমে স্ক্রান করে নিন এবং স্ক্যান করা হয়ে গেলে অ্যাপের প্রদর্শিত ধাপ অনুযায়ী অনুসরণ করুন। যাচাই প্রকিয়া শেষ হলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে।

স্ক্যানের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনাকে পাসওয়ার্ড সেট করার একটি অপশন দেখতে পাবেন। পাসওয়ার্ডটি সেট করা হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনার অ্যাকাউন্টে নিয়ে যাবে। এখান থেকেই কিন্তু আপনি আপনার এনআইডি কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবেন। এখন Profile অপশনে ক্লিক করুন।

পরবর্তীতে ‘Edit’ বাটনে ক্লিক করুন।

Continue বাটনে ক্লিক করুন।

এখানে সর্বমোট পাঁচটি ধাপ দেখতে পাচ্ছেন। প্রথমটি এডিট ইনফরমেশন অর্থাৎ আপনি যে তথ্যটি এডিট করতে চান, সে তথ্যটি পরিবর্তন করবেন।

দ্বিতীয় যেই ধাপ দেখতে পারছেন, অপশনটিতে আপনি যে তথ্যটি এডিট করেছেন সেই তথ্যটির আপডেট দেখতে পারবেন।

তৃতীয় ধাপে আপনাকে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। নিচে একটি অপশন দেখতে পারছেন। যদি আপনার ডেলিভারি টাইপ হয় ‘রেগুলার’, তাহলে রেগুলার সিলেক্ট করবেন অথবা যদি ‘রেগুলার স্মার্ট কার্ড’ হয় সেক্ষেত্রে আপনি সেটিই সিলেক্ট করে দিবেন।

চতুর্থ ধাপে যে অপশন দেয়া আছে, সেখানে আপনি যে তথ্য পরিবর্তন করেছেন তার প্রমাণ স্বরূপ আপনাকে ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। সেটি হতে পারে আপনার পাসপোর্ট, আপনার জন্ম-নিবন্ধন, বা স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট কপি।
পঞ্চম ধাপে আপনাকে রিভিউ দেখানো হবে অর্থাৎ আপনি যে তথ্য আপডেট করেছেন সেটি এবং যে ডকুমেন্টগুলো আপনি আপলোড করেছেন সেগুলো এখানে দেখতে পারবেন। পরবর্তীতে সরাসরি সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন।
পরবর্তীতে প্রোফাইলে গেলে দেখতে পারবেন যে, ‘আপনার একটি এপ্লিকেশন পেন্ডিং রয়েছে’। সাত কার্যদিবসের মধ্যে যদি আপনার কাজটি হয়ে যাবে। যদি না হয়, সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করবেন।
জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি:
| আবেদনের ধরন | বিতরনের ধরন | ডেলিভারী ফি |
| জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন | সাধারণ / সাধারণ স্মার্ট কার্ড | 345 টাকা |
| অন্যান্য তথ্য সংশোধন | সাধারণ / সাধারণ স্মার্ট কার্ড | 115 টাকা |
| জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন | সাধারণ / সাধারণ স্মার্ট কার্ড | 460 টাকা |
| রিইস্যু | সাধারণ | 230 টাকা |
| রিইস্যু | জরুরি | 345 টাকা |
| রিইস্যু | সাধারণ স্মার্ট কার্ড | 230 টাকা |
| রিইস্যু | জরুরি স্মার্ট কার্ড | 345 টাকা |
পড়ুন: কিভাবে অনলাইনে এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করবেন?
সাধারণ জিজ্ঞাসা / FAQ (Frequently Asked Questions)
১. এনআইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন কেন প্রয়োজন হতে পারে?
নাম ভুল, জন্মতারিখ ভুল, পিতা-মাতার নামের বানান ভুল, ঠিকানা পরিবর্তন, বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন বা ছবির সমস্যা থাকলে তথ্য সংশোধন করা দরকার হয়। ভুল তথ্য ভবিষ্যতে ব্যাংক, পাসপোর্ট বা চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
২. এনআইডি কার্ডের তথ্য কোথায় সংশোধন করতে হয়?
বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
আপনি অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করতে পারেন অথবা উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সরাসরি আবেদন করতে পারেন।
৩. অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন কীভাবে করব?
আপনাকে Bangladesh NID Application System এর অফিসিয়াল পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সেখানে লগইন করে “তথ্য সংশোধন” অপশন থেকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নির্বাচন করে আবেদন সাবমিট করতে পারবেন।
৪. এনআইডি সংশোধনের জন্য কী কী কাগজ লাগে?
যে তথ্য পরিবর্তন করবেন, তার ওপর নির্ভর করে কাগজপত্র লাগে। সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে:
- জন্ম নিবন্ধন সনদ
- এসএসসি/এইচএসসি সনদ
- পাসপোর্ট (যদি থাকে)
- বিবাহ নিবন্ধন সনদ (বৈবাহিক তথ্যের ক্ষেত্রে)
- ইউটিলিটি বিল (ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে)
সব কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করতে হয় (অনলাইনে আবেদন করলে)।
৫. নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে কী প্রমাণ লাগে?
শিক্ষা সনদ, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট বা আদালতের এফিডেভিট লাগতে পারে। বানান ভুল হলে সাপোর্টিং ডকুমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৬. জন্মতারিখ সংশোধন করা কি কঠিন?
জন্মতারিখ পরিবর্তন তুলনামূলক সংবেদনশীল বিষয়। সঠিক প্রমাণ ছাড়া সাধারণত পরিবর্তন অনুমোদন করা হয় না। স্কুল সনদ বা জন্ম নিবন্ধন এখানে প্রধান প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৭. এনআইডি সংশোধনে কত টাকা লাগে?
ফি নির্ভর করে কী ধরনের তথ্য সংশোধন করছেন তার ওপর। সাধারণ তথ্য সংশোধনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি অনলাইনে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
৮. আবেদন করার পর কতদিনে সংশোধন হয়?
সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে কেসের জটিলতা ও ডকুমেন্ট যাচাইয়ের ওপর সময় নির্ভর করে। স্ট্যাটাস অনলাইনে চেক করা যায়।
৯. এনআইডি কার্ডের ছবি কি পরিবর্তন করা যায়?
হ্যাঁ, নির্দিষ্ট কারণ থাকলে ছবি আপডেটের আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে সরাসরি নির্বাচন অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক আপডেট করতে হতে পারে।
১০. ভুল তথ্য রেখে দিলে কী সমস্যা হতে পারে?
ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সিম রেজিস্ট্রেশন বা সরকারি সেবায় সমস্যা হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সঠিক তথ্য আপডেট করা ভালো।
১১. ঠিকানা পরিবর্তন করলে কি নতুন কার্ড পাওয়া যায়?
ঠিকানা পরিবর্তনের পর আপডেটেড তথ্যসহ নতুন কপি ডাউনলোড বা সংগ্রহ করা যায়। প্রয়োজনে স্মার্ট কার্ড আপডেটও করা হয়।
১২. যদি আবেদন বাতিল হয় তাহলে কী করব?
আবেদন বাতিল হলে কারণ দেখানো হয়। প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কাগজ সংযুক্ত করে পুনরায় আবেদন করা যায় অথবা সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করা যায়।